পোস্টের টাইটেল দেখেই বুঝতে পারার কথা যে আমি আজ কি নিয়ে হাজির হয়েছি। আজ আমি দেখাব, কিভাবে কোনো সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার ছাড়াই আপনি কোনো ওয়েবসাইটকে ব্লক করতে পারবেন আপনার উইন্ডোজ, ম্যাক বা লিনাক্সের কোনো ডিস্ট্রো অথবা রুটেড অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের hosts নামধারী এক ফাইলকে এডিটের মাধ্যমে।
ওয়েবসাইট ব্লক কি?
কোনো ওয়েবসাইট ব্লক করা কি জিনিস তা তো মনেহয় সকলেরই জানা আছে, তারপরেও বলছি। মনে করুন, আপনি ইন্টারনেটে ব্রাউজিং করতেছেন এবং আপনার পাশে বসা রয়েছে কেউ। এমন সময় যদি কোনো অ্যাডে ক্লিক পড়ে রিডাইরেক্ট হয়ে কোনো অ্যাডাল্ট সাইটে প্রবেশ করে যায়, তখন নিশ্চয়ই আপনি খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাবেন! এজন্য এমন একটা ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন, যাতে আপনার ব্রাউজার কখনো ঐধরণের বিরক্তিকর অথবা বিব্রতকর সাইটে প্রবেশ না করতে পারে। এই ব্যবস্থাটাই হচ্ছে ওয়েবসাইট ব্লকিং, যার মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশকে ঠেকানো সম্ভব। অর্থাৎ, কোনো ওয়েবসাইট ব্লক হচ্ছে এমন একটা বিষয়, যার কারণে আপনি ঐ নির্দিষ্ট ব্লককৃত সাইটে কোনোভাবেই প্রবেশ করতে সক্ষম হবেন না। এভাবে আপনি যেকোনো বিরক্তিকর অ্যাড সাইটগুলোকে আপনার ব্রাউজিং এলাকা থেকে বিদায় জানাতে পারবেন।ওয়েবসাইট ব্লক করার জন্য বিভিন্ন উপায় রয়েছে- ব্রাউজার প্লাগিন ব্যবহার করা, কোনো অ্যাড ব্লকার সফটওয়্যার, প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা। আরেকটি উপায় হলো কম্পিউটার বা অ্যান্ড্রয়েডের hosts ফাইল এডিট করে ব্লক করা। এক্ষেত্রে উক্ত কম্পিউটার যে অপারেটিং সিস্টেম দ্বারাই পরিচালিত হোক না কেন, তাকে অবশ্যই অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাকাউন্ট দ্বারা চালু করতে হবে। এবং অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে অবশ্যই রুটেড হতে হবে। কারণ hosts ফাইলটি সকল অপারেটিং সিস্টেমের রুটেড ডিরেক্টরিতে অবস্থানরত।
hosts ফাইল কি?
hosts ফাইল হলো কোনো অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা চালিত ডিভাইসের (Windows/Mac/Linux/Android) লোকালহোস্ট IP অ্যাড্রেস বহনকারি ফাইল। এর মানে এই ফাইলে কোনো ডোমেইন বা লোকেশনের IP অ্যাড্রেস নির্দিষ্ট করে সেখানে রিডাইরেক্ট করা যায়।এবার আসি 127.0.0.1 প্রসংগে, যেহেতু এখানে সেটা জরুরী। আমরা বিভিন্ন স্থানে হয়তো দেখে থাকি “There’s no place like 127.0.0.1”- এই লেখাটি। এখানে এই যে IP অ্যাড্রেসটা দেয়া আছে 127.0.0.1, এটা দ্বারা কি বোঝানো হয় অথবা এটা কিসের বা কোথা’র IP অ্যাড্রেস? 127.0.0.1 কোনো IPv4 এর Loopback traffic হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই IP টি অন্যান্য প্রকৃত IP গুলোর মতো যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এই 127.0.0.1 IP অ্যাড্রেসটি হলো প্রত্যেকটি নেটওয়ার্কযুক্ত ডিভাইসের নিজস্ব লোকালহোস্ট IPv4, যার মানে নিজের কাছে নিজের IP. নিজের কাছে নিজের বাসস্থান যেমন নিরাপদ বা অতুলনীয়, সেরকমভাবেই এই IP-টি হলো নিজস্বতা। তাই ওরকমভাবে বলা হয়ে থাকে- There’s no place like 127.0.0.1.
এখানে এই পোস্টে আমি উইন্ডোজ 7, কালি লিনাক্স এবং অ্যান্ড্রয়েডের hosts ফাইল এডিট স্ক্রিনশটসহ দেখাব। উইন্ডোজের অন্যান্য ভার্সনও ঠিক 7 এর পদ্ধতির ন্যায়। আবার কালি লিনাক্সে দেখানো পদ্ধতিও লিনাক্সের অন্যান্য ডিস্ট্রোর সাথে একই। শুধু Mac OS না থাকায় স্ক্রিনশটসহ দেখাতে পারলাম না, তবে পদ্ধতি তো আছেই! এখানে www.facebook.com-এই ইউআরএল টি ব্লক করে দেখাচ্ছি।
১। নিম্মের ডিরেক্টরিতে যান; কোনো প্রকার এক্সটেনশনবিহীন hosts নামে একটা ফাইল দেখতে পাবেন, যেকোনো টেক্সট এডিটর (Notepad++ হলে ভালো হয়) দ্বারা ওপেন করুন।
C:\Windows\System32\drivers\etc

ওপেন হলে নিম্মের মতো দেখবেন। যেসকল লাইনের পূর্বে ‘#’ রয়েছে, ওগুলো কমেন্ট বা তথ্য। অর্থাৎ ‘#’ দ্বারা কোনো কমেন্ট নির্দেশিত করা হয়।

২। এরপরে যেকোনো স্থানে নতুন একটি লাইনে লিখুন 127.0.0.1 এবং Tab বাটনে একবার প্রেস করে আপনার ইচ্ছেমত ব্লক করতে চাওয়া সাইটের url-টি লিখুন, নিচের স্ক্রিনশটটি ফলো করতে পারেন।

এভাবে আলাদা-আলাদা সাইটের url ব্লক করার জন্য আলাদা-আলাদা লাইনে একইভাবে 127.0.0.1 এবং url-টি লিখবেন। লাইনের প্রথমে অন্যান্য লাইনের দেখাদেখি আবার ‘#’ চিহ্ন দিবেন না ভুলেও। তাহলে কোনো কাজ হবে না, লাইনগুলো কমেন্ট বলে বিবেচিত হবে।
৩। সব লেখা হয়ে গেলে Ctrl+S প্রেস করুন, নিচের মতো Save failed ডায়ালগ বক্সটি আসলে Yes এ ক্লিক করুন। বর্তমান Notepad++ এর উইন্ডোটি ক্লোজ হয়ে একা একাই আবার চালু হবে। এবারে Save করুন।

৪। পিসি রিস্টার্ট দেয়ার প্রয়োজন নাই, যেকোনো ব্রাউজারে ঢুকে আপনার ব্লককৃত ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করার চেষ্টা করুন। দেখুন অ্যাকসেস করা যাচ্ছে না, নিম্মের মতোই হয়তোবা দেখাচ্ছে।
সম্পন্ন হলো উইন্ডোজের কাজ। একইভাবেই অন্যান্যগুলোরও করতে হয়, শুধু hosts ফাইলের অবস্থান ভিন্ন।